মঙ্গলবার, ১৬ Jul ২০২৪, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
চট্টগ্রামস্থ ছাগলনাইয়া সমিতির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বিশেষ অভিযানে ৬ গ্যাংয়ের ৩৩ জন আটক, দেশী অস্ত্র উদ্ধার ভালো আছেন খালেদা জিয়া ঈদকে ঘিরে জাল নোট গছিয়ে দিত ওরা কুতুব‌দিয়ায় নতুন জামা পেল ১৩৫ এতিম ছাত্র-ছাত্রী মানিকছড়িতে গণ ইফতার মাহফিল সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় পথচারী যুবক নিহত সীতাকুণ্ডে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু রামগড়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিজিবির পুরস্কার ও সনদ বিতরন লাইসেন্স বিহীন ফিলিং স্টেশন স্থাপন করে কার্ভাড ভ্যানে চলছে অবৈধ গ্যাস বিক্রি কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক বিশেষ ক্যাম্পেইন জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে জাহাজের মালিকপক্ষের নতুন ঘোষণা
বাকৃবির সেই শিক্ষককে অনুপস্থিতির জন্য শোকজ

বাকৃবির সেই শিক্ষককে অনুপস্থিতির জন্য শোকজ

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ পাঁচ শিক্ষার্থীর গবেষণায় চুরি ধরায় বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া দেওয়া হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে। একইসঙ্গে তাকে দেড় বছর ধরে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকেও অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ। আর এই অব্যাহতিকালীন সময়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চেয়ে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একইসঙ্গে বিভাগের ১১টি যন্ত্রপাতি জমা দিতেও তাকে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ মাসের ৪ তারিখে চিঠি দুইটি ইস্যু করা হয়। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্ম স্ট্র্যাকচারাল অ্যান্ড এনভাইরনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক।

গত ৪ ডিসেম্বর অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের কাছে বাকৃবির দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাডিশনাল রেজিস্ট্রার (সংস্থাপন-২) স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘২০১৬ সালের ৫ জুন বিভাগীয় বোর্ড অব স্ট্যাটিজের ৩৯৮তম সভা থেকে অদ্যাবধি আপনি (আনোয়ার হোসেন) বিভাগে অনুপস্থিত রয়েছেন।’ চিঠি ইস্যুর সাত দিনের মধ্যে অনুপস্থিত থাকার জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে। একই দিন দেওয়া অ্যাডিশনাল রেজিস্ট্রারের আরেকটি চিঠিতে আনোয়ার হোসেনকে বিভাগের সভাপতি থাকা অবস্থায় নেওয়া ১১টি যন্ত্রপাতি জমা দিতে বলা হয়।

ভুক্তভোগী ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড অ্যানভায়রনমেন্টাল বিভাগের শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের দাবি, তাকে হয়রানি করার জন্যই এসব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার অপরাধ আমি পাঁচ শিক্ষার্থীর থিসিসে নকলের অভিযোগ এনেছিলাম। ওই পাঁচ শিক্ষার্থী বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক গবেষণার হুবহু তথ্য তাদের নিজেদের মাস্টার্সের থিসিসে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নকলের অভিযোগ পেয়েও তা আমলে না নিয়ে উল্টো আমাকে একের পর এক হেনস্থা করে যাচ্ছে। আমাকে গত বছর বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এমনকি সব ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকেও অব্যাহতি দেয়। এছাড়া সম্প্রতি ভর্তি পরীক্ষার হল প্রধানের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দিয়েছে। বাকৃবির ওয়েবসাইটে আমার পরিচিতিতে অধ্যাপকের জায়গায় সহযোগী অধ্যাপক করে রাখা হয়েছে। অথচ আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১৪ সালের জুনের ২ তারিখ থেকে অধ্যাপক ঘোষণা করে। ঘোষণার পর থেকেই আমি একজন অধ্যাপকের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করে আসছি।’

অনুপস্থিত থাকা বিষয়ে ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অব্যাহতি দেওয়ার পরও আমি নিয়মিত বিভাগে উপস্থিত থাকি। তবে যেহেতু বিভাগে আমার কোনও কাজ নেই তাই কম সময় থাকি। এছাড়া আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় বেতন-ভাতা সবই দিচ্ছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সরকারি কোয়ার্টারেও আছি যা ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থিত। যদি অনুপস্থিত থাকতাম, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে আমার বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তাহলে আমি অনুপস্থিত কি করে?’

যন্ত্রপাতির ব্যাখ্যা দিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আরেকটি নোটিসে ১১টি যন্ত্রপাতি আমাকে বুঝিয়ে দিতে বলেছে। যদিও ওইসব যন্ত্রপাতিগুলো বিভাগীয় প্রধানের কক্ষেই ছিল। আমি ইতোমধ্যে চিঠি দুইটির জবাব দিয়েছি।’

বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বিভাগে উপস্থিত থাকেন না। এর সব ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে। কারণ একাডেমিক মিটিং কল করার আগে তাকেও চিঠি দিয়ে ইনভাইট করা হয়। কিন্তু তিনি উপস্থিত থাকেন না। এগুলো নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যাথা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে ডকুমেন্ট চেয়েছেন আমরা দিয়েছি।’

ড. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে ঢাকাসহ অন্যান্য অনেক জায়গায় যান। সেগুলোর ছবিও আমাদের কাছে আছে। কিন্তু নিয়ম আছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লে অনুমতি নিতে হয় অথবা ছুটির আবেদন দিতে হয়। এটাও তিনি করেন না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, তাদের পাঠানো কোনও চিঠি আমার হাতে পৌঁছায় না। কারণ হিসেবে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিভাগ থেকে পাঠানো সব চিঠি দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লার্কের কাছে যায়। সে সব চিঠি পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ হলে পুড়িয়ে ফেলে। আর ওই ক্লার্ক সাবেক ডিন অধ্যাপক আব্দুর রশীদের ভাতিজা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মূল হোতা এই ডিন।’

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রারকে ফোন করা হয়। তবে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT