রবিবার, ২১ Jul ২০২৪, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
চট্টগ্রামস্থ ছাগলনাইয়া সমিতির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বিশেষ অভিযানে ৬ গ্যাংয়ের ৩৩ জন আটক, দেশী অস্ত্র উদ্ধার ভালো আছেন খালেদা জিয়া ঈদকে ঘিরে জাল নোট গছিয়ে দিত ওরা কুতুব‌দিয়ায় নতুন জামা পেল ১৩৫ এতিম ছাত্র-ছাত্রী মানিকছড়িতে গণ ইফতার মাহফিল সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় পথচারী যুবক নিহত সীতাকুণ্ডে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু রামগড়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিজিবির পুরস্কার ও সনদ বিতরন লাইসেন্স বিহীন ফিলিং স্টেশন স্থাপন করে কার্ভাড ভ্যানে চলছে অবৈধ গ্যাস বিক্রি কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক বিশেষ ক্যাম্পেইন জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে জাহাজের মালিকপক্ষের নতুন ঘোষণা
দেশ সেরা তিন কিশোরী ফুটবলারের গৃহ নির্মাণ লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন-কংজরী চৌধুরী

দেশ সেরা তিন কিশোরী ফুটবলারের গৃহ নির্মাণ লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন-কংজরী চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকছড়িঃ সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে ফাইনাল খেলায় বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে যে জয় পেয়েছিল সে জয়ের সাক্ষী পাহাড়ী জনপদ খাগড়াছড়ি। ফাইনালে খাগড়াছড়ির মেয়ে আনুচিং মারমা ফরোয়ার্ড, আনাই মারমা রাইট ডিফেন্ডার ও মনিকা চাকমা সেন্টার মিড ফিল্ডে খেলে বাংলাদেশ দলকে এনে দিয়েছে শিরোপা।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের তিন কন্যার সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিতে এবং তাঁদের জীবনকে বিকশিত পাশে দাঁড়িয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।

মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জেলা সদরের সাথৈঅং কার্বারী পাড়ায় যমজ দুই কন্যা আনুচিং ও আনাই মারমা’র বাড়িতে হাজির হন।

তাঁকে কাছে পেয়ে এই কৃতী ফুটবলারের বাবা দিনমজুর রিপ্রু চাই মারমা ও মা আপ্রুমা মারমা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসময় চলতি অর্থবছরের মধ্যেই আনাই-আনুচিংদের ঘরটি পূন:নির্মাণ করার প্রত্যয় জানান।

একই সাথে তিনি আরেক কৃতী ফুটবল কন্যা লক্ষ্মীছড়ির দূর্গম সুমন্ত পাড়ার মনিকা চাকমা’র ঘরও নির্মাণের ঘোষণা দেন।

এছাড়া এই তিন ফুটবল কন্যার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে এফডিআর, শিক্ষাবৃত্তিসহ তাঁদের জন্য করণীয় সব দায়িত্ব পালন করবে জেলা পরিষদ।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানময় ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) সভাপতি নুরুল আজম, জেলা পরিষদের পিআরও চিংলামং চৌধুরীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলার মধ্যদিয়ে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন বুনতে থাকেন তারা। খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দূর্গম সুমন্তপাড়ার গ্রামের মেয়ে মনিকা চাকমা। খেলাধূলা দূরের কথা মৌলিক অধিকারের অনেক সুবিধাই নেই এই গ্রামে। তবুও নিজের প্রবল ইচ্ছে শক্তি ও ক্রীড়া নিপুণতা দূর্গম গ্রাম থেকে তুলে এনেছে তাকে।

একই অবস্থা খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সাথৈঅং কার্বারী পাড়ার যমজ বোন আনাই মারমা ও আনুচিং মারমাদের গল্প। সাত ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট তারা। পরিবারের অভাব অনটন থাকায় ঠিক মতো তাদের দেখভাল করতে না পারার ভয়ে জন্মের পরপরই দত্তক দেয়ার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতার বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় তিন জনের খেলার কৌশল নজওে আসে রাঙামাটির ক্রীড়া সংগঠক বীর সেন চাকমার। তার তত্বাবধানে আনুচিং, আনাই ও মনিকাকে প্রশিক্ষিত করে তোলা হয় দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে।

ভারতের বিপক্ষে শিরোপা ঘরে এনে দেশজুড়ে পাহাড়ী জনপদ খাগড়াছড়িকে আলোচনায় এনেছে তারা। কিন্তু বাংলাদেশকে জয় এনে দিলেও নিজেদের দারিদ্র্যতাকে জয় করতে পারেনি তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT