রবিবার, ২১ Jul ২০২৪, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
চট্টগ্রামস্থ ছাগলনাইয়া সমিতির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বিশেষ অভিযানে ৬ গ্যাংয়ের ৩৩ জন আটক, দেশী অস্ত্র উদ্ধার ভালো আছেন খালেদা জিয়া ঈদকে ঘিরে জাল নোট গছিয়ে দিত ওরা কুতুব‌দিয়ায় নতুন জামা পেল ১৩৫ এতিম ছাত্র-ছাত্রী মানিকছড়িতে গণ ইফতার মাহফিল সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় পথচারী যুবক নিহত সীতাকুণ্ডে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু রামগড়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিজিবির পুরস্কার ও সনদ বিতরন লাইসেন্স বিহীন ফিলিং স্টেশন স্থাপন করে কার্ভাড ভ্যানে চলছে অবৈধ গ্যাস বিক্রি কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক বিশেষ ক্যাম্পেইন জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে জাহাজের মালিকপক্ষের নতুন ঘোষণা
দুই আসামির জন্য এত দরদ!

দুই আসামির জন্য এত দরদ!

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার দুই আসামিসহ তিনজনকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের অধীন এক বছর মেয়াদি বিপিএড (ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন) কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষার দিন তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন। পরে ২১ ডিসেম্বর বিশেষ ব্যবস্থায় তিনজনের পরীক্ষা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খবর প্রথম আলো

বিশেষ সুবিধা পাওয়া তিনজন হলেন আবদুল মালেক, আবু তোরাব ও তৌফিকুল ইসলাম। এর মধ্যে মালেক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি এবং আবু তোরাব যুগ্ম সম্পাদক। তাঁরা দিয়াজ হত্যা মামলার আসামি। মালেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে মাস্টার্স এবং তোরাব মার্কেটিং থেকে এমবিএ পাস করেন।

ছাত্রত্ব ধরে রাখতে ওই দুজন বিপিএড কোর্সে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে নাম না প্রকাশের শর্তে ছাত্রলীগের অন্য নেতারা জানান। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চলছে। কমিটিতে তাঁরা বড় পদ পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গত বছরের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় নিজ বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক
ছিলেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আগে দিয়াজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, এ অভিযোগ এনে তাঁর মা জাহেদা আমিন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এক বছরেও হত্যা মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় দিয়াজের মা গত মাসের শেষ সপ্তাহে অনশন শুরু করেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে—পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন আশ্বাসে ছয় দিন পর ২ ডিসেম্বর অনশন ভঙ্গ করেন তিনি।

ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে হত্যা মামলার দুই আসামিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে অবরোধ কর্মসূচি ছিল। এ কারণে সেদিন কিছু ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরে ওরা সংশ্লিষ্ট বিভাগে পরীক্ষার জন্য আবেদন করে। তাই বিশেষ বিবেচনায় নতুন প্রশ্নপত্রে তাদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘কে হত্যা মামলার আসামি, কে নয়, তা তো আমরা দেখিনি। ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী হিসেবে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।’

বিপিএড কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইলে কোনো শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হয়। ২৫ আসনের এই কোর্সে ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই দিন দুপুরে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও খেলাধুলায় শারীরিক উপযুক্ততা যাচাইয়ের পরীক্ষা দেন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।

প্রস্তুতি থাকলেও অবরোধের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে দাবি করেন আবু তোরাব। আর আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শারীরিক শিক্ষা বিভাগে আবেদন করেন। পরে বিভাগ থেকে ফোন করে তাঁদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়।

দিয়াজ হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ১৯ ডিসেম্বর ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অবরোধের ডাক দেয়। কর্মসূচি সফল করতে সেদিন আবদুল মালেক ও আবু তোরাব ক্যাম্পাসে ছিলেন বলে ছাত্রলীগেরই অন্য নেতা-কর্মীরা প্রথম আলোকে জানান।

বিপিএড কোর্সে নির্ধারিত আসনের চেয়ে এবার কম আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার জালাল আহমেদ। গতকাল বিকেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সেদিন ২০ জনের মতো ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনি বলেন, ‘যে তিনজন দুদিন পর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। আমরা শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পালন করেছি।’

এ বিষয়ে নিহত দিয়াজের বোন জুবাইবা ছরওয়ার চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকে খুনের মামলার আসামিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দুই আসামিকে সর্বশেষ বিশেষ বিবেচনায় ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এর বড় প্রমাণ। তিনি বলেন, খুনের কারণ বের করতে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অথচ তাঁকে এখনো বরখাস্ত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT