রবিবার, ২১ Jul ২০২৪, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
চট্টগ্রামস্থ ছাগলনাইয়া সমিতির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বিশেষ অভিযানে ৬ গ্যাংয়ের ৩৩ জন আটক, দেশী অস্ত্র উদ্ধার ভালো আছেন খালেদা জিয়া ঈদকে ঘিরে জাল নোট গছিয়ে দিত ওরা কুতুব‌দিয়ায় নতুন জামা পেল ১৩৫ এতিম ছাত্র-ছাত্রী মানিকছড়িতে গণ ইফতার মাহফিল সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় পথচারী যুবক নিহত সীতাকুণ্ডে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু রামগড়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিজিবির পুরস্কার ও সনদ বিতরন লাইসেন্স বিহীন ফিলিং স্টেশন স্থাপন করে কার্ভাড ভ্যানে চলছে অবৈধ গ্যাস বিক্রি কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক বিশেষ ক্যাম্পেইন জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে জাহাজের মালিকপক্ষের নতুন ঘোষণা
চট্টগ্রাম আদালতে চেম্বার নিয়ে আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মারামারি, আদালত পাড়ায় উত্তেজনা

চট্টগ্রাম আদালতে চেম্বার নিয়ে আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মারামারি, আদালত পাড়ায় উত্তেজনা

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ চট্টগ্রাম আদালত অঙ্গনে আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে। এতে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। আইনজীবীদের জন্য নির্মিত শাপলা ভবনে ৭৩ টি চেম্বার বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ডাকা সাধারণ সভায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বেলা ১টায় অনুষ্ঠিত এ সাধারণ সভায় তুমুল হট্টগোল, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানের পর সমিতির সভাপতি এডভোকেট রতন কুমার রায় আইনজীবীদের উপস্থিতিতে অনিয়ম হওয়া চেম্বার বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করেন।

এর কিছুক্ষণ পর এ পক্ষ মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে গেলে এডভোকেট আবু হানিফের নেতৃত্বে থাকা সমিতির কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্য একই মঞ্চে সভা শুরু করেন। তিনি এসময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আইনজীবীদের চেম্বার বরাদ্দ হয়েছে সম্পূর্ণ গঠনতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এতে ভোটাভুটিও হয় সমিতির কার্যালয়ে। এতে কার্যকরী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে ১৭ জনের সম্মতিতে চেম্বার বরাদ্দ দেয়া হয়। সুতরাং এটা নিয়ে হাঙ্গামা করার অবকাশ নেই। এদিকে বেলা ১২টায় মিলনায়তনে চেম্বার বরাদ্দের পক্ষে থাকা আইনজীবী চেম্বার স্বার্থ রক্ষা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট আহমদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী সাজ্জাদ।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায় এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফের মধ্যে চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে বিরোধ এখন প্রকাশ্য। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই দুই আইনজীবী নেতার বিরোধের জেরে এই অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন সাধারণ আইনজীবীরা। সাধারণ আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী ৭৩ চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে কোন ধরনের টেন্ডার হয়নি। লটারি অনুষ্ঠিত হয়নি। এ নিয়ে আইনজীবীদের বড় একটি অংশ বিক্ষুব্ধ হয়। জানা গেছে, আইনজীবীদের জন্য নির্মিত শাপলা ও দোয়েল ভবনে চেম্বার বরাদ্দ, বিনিময় এবং স্থানান্তর চলছে। শাপলা ভবনে টেন্ডার ছাড়া ৭৩টি চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গত ২০ ডিসেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গঠনতন্ত্রের ৪২ (১) বিধি অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদককে ওই বিষয়ে আলোচনার জন্য সাধারণ সভা আহ্বানের নির্দেশ দেন। সাধারণ সম্পাদক ২১ জানুয়ারি সভা আহ্বান করলে বিষয়টি সাধারন আইনজীবীদের পছন্দ না হওয়ায় তাদের মাঝে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। এ অবস্থায় গতকাল ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলেও জানান এডভোকেট রতন কুমার রায়। তিনি জানান, ২০ ডিসেম্বর উনাকে (সম্পাদক) সভা আহ্বান করার জন্য বললাম। উনি ডাকলেন একমাস পর। এতো দীর্ঘসময় পর সভার তারিখ দেয়ার মানে কি তা আইনজীবীরা বুঝতে পারেন।

অন্যদিকে সম্পাদক আবু হানিফ বলেন, তিনি ভারতে থাকাকালীন সভাপতি তার নির্দেশ প্রতিপালিত হয়নি এই কারণ দেখিয়ে ৮ জানুয়ারি (গতকাল সোমবার) সমিতির ৩ নম্বর মিলনায়তনে সাধারণ সভা আহ্বান করেন। কিন্তু সভাপতি আমার অবর্তমানে সভা ডেকে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যেই আইনজীবী চেম্বার স্বার্থ রক্ষা কমিটি নামে সাধারণ আইনজীবীরা একটি সংগঠন গড়ে তুলেন যারা সভাপতির অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছেন। তারাও গতকাল একই স্থানে সভা আহ্বান করেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চেম্বার স্বার্থ রক্ষা কমিটি এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতির সমর্থক অংশটি একইসময় সভা করার জন্য তিন নম্বর মিলনায়তনে যান। এসময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তবে জেষ্ঠ্য আইনজীবীরা গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, সমিতি চেম্বার বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা নিয়েছি। অথচ সভাপতি এখন টেন্ডারের কথা বলে সেই বরাদ্দ বাতিল চাচ্ছেন। সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বের জন্য তো আমরা দায়ী হতে পারি না। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে সভাপতির লোকজন আমাদের উপর হামলা করেছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ বলেন, চেম্বারগুলো তৈরির জন্য দেড় থেকে দুই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সমিতিতে ছিল মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। বাকি টাকার যোগান দিয়েছেন চেম্বার গ্রহীতা আইনজীবীরা। তারা নিজেরাই সরাসরি বারের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়েছেন। এখানে অন্যকোন কিছু নেই।

এদিকে বিকেল ২টার দিকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট রতন রায়ের সভাপতিত্বে আইনজীবী মিলনায়তনে সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা দেখা দেয়। এতে সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুলসহ অন্যান্যরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন এডভোকেট রতন কুমার রায়। তিনি বক্তব্যে বলেন, বিনা টেন্ডারে ও বিনা লটারিতে ৭৩টি চেম্বার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অগনতান্ত্রিক। এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, অনিয়ম হয়েছে এটা পরিস্কার। আমরা পাঁচ হাজার আইনজীবীর পক্ষে কথা বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। ৭৩ জনের পক্ষে নয়। সুতরাং হেচৈ করবেন না। এ সময় সাধারন আইনজীবীরা তাঁর এ বক্তব্যকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি সামনে থাকা ওই ৭৩ জনের পক্ষে ও বিক্ষোভ দেখানো হয়।

এ অবস্থায় সভায় উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী ও সাধারন আইনজীবীদের সামনে ৭৩ চেম্বারের বরাদ্দ বাতিলের ঘোষণা দেন এডভোকেট রতন। এরপর তারা মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে যান।

এ সাধারন সভায় উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এডভোকেট খোরশেদ আলম চৌধুরী, রেজাউল করিম চৌধুরী, সালেহ উদ্দিন হায়দার সিদ্দিকী,মোহাম্মদ মুজিবুল হক চৌধুরী, সমিতির সিনিয়র সহ–সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাবেক সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন আক্তার মোস্তাক,মনতোয় বড়ুয়া,মোহাম্মদ মুুজিবুর রহমান ফারুখ, মোহাম্মদ আবদু্‌র রশিদ, আখতার কবির চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন, আইয়ুব খান, কাজী নজমুল হক, সাবেক পিপি আবদুস সাত্তার, সাবেক জেলা পিপি আবুল হাশেম, আইনজীবী ফোরামের সম্পাদক মোহাম্মদ জহুরুল আল, মারুফ মাহমুদ, অসীম শর্ম্মা ও ইমতিয়াজ উদ্দিন জিয়াসহ অন্যান্যরা।

এদিকে বরাদ্দ বাতিল ঘোষণার ১০ মিনিট পর মিলনায়তনে ঢুকেন এডভোকেট আবু হানিফ। এসময় সমিতির কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্য তাঁর সাথে ছিলেন। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এতদিন যারা অনিয়মে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন তারাই আজকে চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সম্পুর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবেই চেম্বার বরাদ্দ হয়েছে। এতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, কার্যকরী কমিটির ১৭ জনের সম্মতিতে (১৯ জনের মধ্যে) এ বরাদ্দ হয়েছে কাগজে কলমে। কারো মুখের কথায় বরাদ্দ বাতিল করার সুযোগ নেই। এর আগে বেলা ১২টার দিকে একই স্থানে আইনজীবী চেম্বার স্বার্থ রক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট কামরুল ইসলাম চৌধুরী সাজ্জাদ, এডভোকেট ওমর ফারুক শিবলী, এড. আলী আকবর, এড. মোহাম্মদ ইদ্রিস, এড. আনোয়ার হোসেন আজাদ, এড. মাসুদুল আলম বাবলু, এড. সুজিত কুমার মহাজন, এড. ফেরদৌস মোরশেদ, এড. রেজাইল করিম রনি, এড. আবদুর রহিম, এড. চুমকি চৌধুরী হানিফ, এড. হোসাইন মো. আশরাফ উদ্দিন, এড. প্রদীপ আইচ, এড. মাহবুবুল ইসলাম, এড. সাইফুল্লা, এড. রাহেলা চৌধুরী রেখা, এড. রাহাত উদ্দিন ইসমত, এড. মো. রফিকুল হক, এড. এরশাদুল ইসলাম সুমন, এড. মোমেনুর রহমান, এড. মো. সিরাজ, এড. নুরুনবী, এড. ওমর ফারুক, এড. আমিন আহমেদ, এড. দীপক কান্তি নাথ, এড. প্রতীত বড়ুয়া, এড. প্রকৃতি চৌধুরী, এড. জোবায়ের মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, প্রমুখ। সভায় বক্তারা চেম্বার সিন্ডিকেট বাণিজ্যের সাথে জড়িত বিতর্কিত কতিপয় ব্যক্তির নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রাপ্ত সদস্যদের চেম্বার বরাদ্দ বাতিলের অপচেষ্টা রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এদিকে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনায় আদালত অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT